ডিজিটাল ডিটক্স কি এবং এটা কিভাবে করা যায় - জানা দরকারি - Jana Dorkari

Breaking

সোমবার, ১ জুলাই, ২০২৪

ডিজিটাল ডিটক্স কি এবং এটা কিভাবে করা যায়

ডিজিটাল আসক্তি কাটাতে ডিজিটাল ডিটক্স  পদ্ধতিগুলো কি কি?

বিভিন্ন ধর্মীয় এবং সামাজিক অনুষ্ঠানে উপোস করে থাকার প্রথা আছে। এটা প্রমাণিত হয়েছে যে উপোস করার ফলে মানুষের শরীরের দূষিত কোষগুলি সহজে ধ্বংস হয়ে শরীর থেকে বেরিয়ে যায় অর্থাৎ শরীরের ডিটক্স হয়ে থাকে। 


প্রতিদিনের জীবনে, ঘুম থেকে ওঠা থেকে রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যেমে আমরা ক্রমাগত তথ্য গ্রহণ করে চলেছি। আমাদের মস্তিষ্ক এই তথ্যগুলি ক্রমাগত বিশ্লেষণ এবং প্রতিক্রিয়া দিয়ে চলছে। এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলার ফলে আমরা চোখে সমস্যা, মাথা ব্যাথা ইত্যাদি শারীরিক উপসর্গ এবং মানসিক সমস্যা দেখা যায়। আমাদের মস্তিষ্ক, চোখকে বিশ্রাম দিতে এবং ডিজিটাল ডিভাইসের ওপর মাত্রারিক্ত আসক্তি কমাতে তখন আমাদের ডিজিটাল ডিটক্স করার প্রয়োজন হয়।  

ডিজিটাল উপোস - Digital Detox
Digital Detox
Image by freepik

ডিজিটাল ডিটক্সের ধারণাঃ 

যদি আপনাকে বলা হয়ে যে, আপনাকে কোনো এক মাসে একদিন অথবা দুইদিন আপনার মোবাইল এবং যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস থেকে সম্পূর্ণভাবে দূরে থাকতে হবে। আপনি কি পারবেন?....যদি এটা করা সম্ভব হয়, তাহলেই বলা যাবে আপনি ডিজিটাল ডিটক্স সম্পূর্ণ করতে পেরেছেন। 


ডিজিটাল ডিটক্স করার বয়সসীমাঃ

ডিজিটাল ডিটক্স করার কোনো নির্দিষ্ট বয়সসীমা নেই। যেকোনো বয়সী এবং যেকোনো পেশার মানুষ এটা পালন করতে পারেন। 

কেন ডিজিটাল উপাস করবেন?

আপনি যখন প্রতিদিন আপনার মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে  ইন্টারনেট বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যাবহার করতে থাকেন তখন আপনার মাথায় ক্রমাগত ভালো এবং খারাপ তথ্যগুলি ঢুকতে থাকে ফলে আমাদের মস্তিষ্কের ভেতরে এমন জট পাকিয়ে যায় যে আমাদের সঠিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা, ধৈর্য সহকারে তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাগুলো কমে যেতে থাকে। 

আমাদের মস্তিষ্ক যখন তথ্যবিশ্লেষণ না করেই কোনো দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে পৌছানোর পরে দ্রুত ডোপামিন ক্ষরণ করে তখনই আমরা আসক্ত হয়ে পড়ি। আমরা আমাদের স্মার্টফোন বা কম্পিউটারে কেন ইন্টারনেট ব্যাবহার করছি তা না জেনেই ঘন্টার পর ঘন্টা ব্যাবহার করে চলেছি। হাইপারলিঙ্কে ক্লিক করে এক অদৃশ্য মায়ার জালের এক প্রান্ত থেকে এক প্রান্তে ছুটে চলছি। কিসের সন্ধানে চলছি? তথ্যের সন্ধানে। সেই তথ্য পাওয়ার পরে যারা সেটাকে বিশ্লেষণ করে কাজে লাগাতে পারে তারা সফল হয়ে। বাকিরা তথ্যবিশ্লেষণ না করেই ডোপামিনে আসক্ত হয়ে পড়ে। এই আসক্তি কমানোর জন্যই আমাদের ডিজিটাল ডিটক্স করতে হবে। 


ডিজিটাল ডিটক্স কতক্ষণ ধরে করতে হবে?

ডিজিটাল ডিটক্সের করার জন্য কোনো নিদিষ্ট সময়সীমা নেই। যদি আপনার ডিজিটাল ডিভাইসের প্রতি অতিরিক্ত মাত্রায় আসক্তি থাকে তাহলে প্রথমে একঘন্টা দিয়ে শুরু করুন এবং একবার অভ্যাস হয়ে গেলে ধীরে ধীরে সময় বাড়াতে পারবেন। তারপরে আপনি আপনার সধ্যমত যতখুশি ঘন্টা, দিন, সপ্তাহ, মাস এবং বছর পর্যন্ত ডিজিটাল ডিটক্স করতে পারেন। 


ডিজিটাল ডিটক্সের সময় স্মার্টফোন ছাড়া সবার সঙ্গে জরুরী যোগাযোগ কিভাবে হবে?

এরকম যদি মনে হয় যে ডিজিটাল ডিটক্সের সময় আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফোন আসতে পারে বা আপনাকে জরুরী দরকারে ফোন করতে হতে পারে, তাহলে সেক্ষেত্রে একটি কিপ্যাড যুক্ত বেসিক ফোনে আপনার সিম ভরে নিন। এখন 4G বেসিক ফোন কিনতে পাওয়া যায়। সুতরাং যোগাযোগের  ক্ষত্রে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।

ডিজিটাল ডিটক্সের সময় কোন জিনিস ব্যাবহার করা যাবে না?

ডিজিটাল ডিটক্স চলাকালীন যেকোনো ডিজিটাল ডিভাইস এবং ইন্টারনেটের ব্যাবহার থেকে বাধ্যতামূলকভাবে দূরে থাকতে হবে। এমনকি অফলাইনে স্মার্টফোন এবং ল্যাপটপ ব্যাবহার করা যাবে না। 

ডিজিটাল ডিটক্স কবে এবং কখন করা উচিত?

ডিজিটাল ডিটক্সের শুরু করার জন্য কোনো নিদিষ্ট দিনক্ষণ নেই। তবে কিছু বিশেষ সময় এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে ডিজিটাল ডিটক্স শুরু করলে ভালো ফল পাবেন। যেমন -

(i) দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে থাকার সময়। যেমনঃ পূজার ছুটি, গ্রীষ্মকালীন ছুটি ইত্যাদি।

(ii) দীর্ঘদিন পরে দেশের বাড়িতে ফিরে আত্মীয় স্বজন, বন্ধু-বান্ধব এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসাথে কয়েকদিন কাটানোর সময়।

(iii) গোটা সপ্তাহের কাজের চাপ সামলে উইকএন্ডে পরিবারের সঙ্গে কাটানোর সময়।

(iv) পারিবারিক, সামাজিক এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠান রীতিনীতি পালনের সময়। 

(v) কোনো প্রাকৃতিক পরিবেশে ভ্রমণে গেলে। নিজের দুচোখে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করুন।

(vi) বাড়িতে টিভি অথবা মাল্টিপ্লেক্স এবং সিনেমাহলে সিনেমা দেখার সময়।

(vii) শরীর চর্চা এবং খেলাধূলা করার সময়।

(viii) নিজের অথবা পরিবারের সদস্যদের শারীরিক অসুস্থতার সময়।

(ix) বই পড়া, ছবি আঁকা, ডিজাইনিং সংক্রান্ত কাজের সময়।

(x) কর্মচ্যূত হওয়া অথবা সম্পর্ক ভেঙ্গে যাওয়ার পরে।


ডিজিটাল ডিটক্সের সময় একঘেয়ামি কাটাতে যা করবেনঃ

পরিবারের সকলের সঙ্গে ভালো সময় কাটানো
পরিবারের সকল সদস্যদের সঙ্গে বসে খাওয়া দাওয়া করা
এবং গল্প করা ডিজিটাল ডিটক্সের একটি বিশেষ অংশ
ছবির সূত্রঃ Leonardo AI

ডিজিটাল ডিটক্সের সময় একঘেয়ামি কাটাতে নীচের কাজ গুলি করতে পারেন -

(i) বই পড়ুন, ছবি আঁকুন অথবা টিভিতে সিনেমা দেখুন। এছাড়া আপনার কোনো ভালো হবি থাকলে সেগুলি করুন। 

(ii) বাড়ির ছোট থেকে বড় সকল সদস্যদের সঙ্গে কথা বলুন, একসঙ্গে বসে খাবার খান এবং গল্প করুন। কিছু ইন্ডোর গেমস খেলতে পারেন। 

(iii) নিকটবর্তী কোনো বন্ধু-বান্ধব থাকলে তাদের সঙ্গে দেখা করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করুন। দূরে থাকা আত্নীয়স্বজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করুন। 

(iv) আপনার বাড়িতে অথবা বাড়ির পাশে কোনো গাছপালা থাকলে তাদের নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। বাড়িতে নিজস্ব বাগান থাকলে তা পরিচর্যা করুন। 

(vi) বাড়িতে যদি কোনো পোষ্য প্রাণী থাকলে তাদের পরিচর্যা করুন। পোষ্যকে সাথে নিয়ে বাইরে বেড়াতে যেতে পারেন।  

(vii) অফলাইনে যেমন স্থানীয় বাজার থেকে ক্যাশ পেমেন্ট দিয়ে কিছু কেনাকাটা করুন। 

(viii) হালকা শরীরচর্চা বা খেলাধুলা করতে পারেন। তবে দীর্ঘদিন অভ্যাস না থাকলে উপেক্ষা করুন। 

(ix) সকালের সূর্যোদয় এবং সন্ধ্যার আগের সূর্যাস্ত দেখুন। মন প্রশস্ত এবং শান্ত থাকবে। 

বিশেষ মন্তব্যঃ 

ডিজিটাল ডিটক্স কিন্তু আপনাকে ডিজিটাল লাইফস্টাইল থেকে বিরত থাকতে উৎসাহ দেয় না। বরং ডিজিটাল জগতে থাকার সময় আপনি যাতে নিয়ন্ত্রণহীন না হয়ে পড়েন সেই দিশা দেখাতে ডিজিটাল ডিটক্স আপনাকে বিশেষ সাহায্য করতে পারে। এই ডিজিটাল ডিটক্স অনেকের ধৈর্য এবং মনসংযোগ পুনরায় ফিরিয়ে এনেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে। 

আপনার মতামতঃ 

আপনারা যদি কখনো ডিজিটাল ডিটক্স করেছেন অথবা ভবিষ্যতে ডিজিটাল ডিটক্স করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাহলে আপনাদের মুল্যবান তথ্য এবং অভিজ্ঞতা অবশ্যই এই লেখার নীচের কমেন্টবক্সে গিয়ে পোস্ট করুন। আমরা আপনাদের লেখা পড়তে আগ্রহী  


কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন