কন্টেট ক্রিয়েটারদের মনিটাইজেশনের ওপরে কেন প্রভাব পড়ছে এবং এই সমস্যার সমাধান কিভাবে সম্ভব? - জানা দরকারি - Jana Dorkari

Breaking

রবিবার, ১০ আগস্ট, ২০২৫

কন্টেট ক্রিয়েটারদের মনিটাইজেশনের ওপরে কেন প্রভাব পড়ছে এবং এই সমস্যার সমাধান কিভাবে সম্ভব?

কন্টেট ক্রিয়েটারদের মনিটাইজেশনের ওপরে কেন প্রভাব পড়ছে এবং এই সমস্যার সমাধান কিভাবে সম্ভব?

content-creator-youtube-monitization


চারিদিকে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দাপট। তবে কি মানুষের বুদ্ধিমত্তা বিশাল চ্যালেঞ্জের মুখে? ওয়েব ব্লগিংয়ের কাজে নিযুক্তরা আজ অনেকেই রাস্তা হারিয়ে ফেলছে। কিভাবে তাদের ওয়েবসাইটে ট্রাফিক আসবে সেটাই তারা বুঝে উঠতে পারছে না। যারা প্রতিষ্ঠানিক ওয়েব ব্লগার তারা না হয় একটা সিস্টেমের মধ্যে চলে কিন্তু যারা ওয়ান ম্যান আর্মি তাদের ক্ষেত্রে? একজন মানুষ একাকী কতটা কন্টেট লিখতে পারে। এতকাল অন্য ওয়েবসাইট থেকে তথ্য নিয়ে নিজের মত করে গরুর রচনা লিখলেই কন্টেট মনিটাইজেশন হয়ে যেত। তার ওপরে ছিল সার্চ Console ব্যাবহার করে সার্চ ইঞ্জিনে ইন্ডেক্সিং করে দেওয়া। এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমস্ত কন্টেন্টের নজরদারি চালাতেই আর কন্টেট সার্চ ইঞ্জিনে আসছে না। আর এখন তো গুগোল সার্চ ইঞ্জিনে AI Mode যুক্ত হওয়ার পরে ব্লগ ওয়েবসাইটে যাওয়ার বেশী দরকারই পড়ছে না। প্রয়োজনীয় তথ্য গুগোল সার্চের AI Mode এর মধ্যেই দেখিয়ে দিচ্ছে। সুতরাং ওয়েব ব্লগিং থেকে লাখ লাখ টাকা কামানোর স্বপ্ন যারা নিয়ে এসেছিলেন এখন তাদের এখন অনেকেই হতাশ হয়ে পড়ছেন।


ডিজিটাল মার্কেটিং ক্লাসের একজন শিক্ষক সেদিন তার ক্লাসে বলছিলেন এখন ভিডিও কন্টেটই হলো ওয়েবসাইটের অথবা কন্টেটের প্রধান খাদ্য। উদাহরণ হিসাবে আমরা ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট এবং টিকটকের কথা বলতে পারি কারণ এখন সেখানে ভিডিও কন্টেটের চাহিদা বেশী। এবং আমরা দেখছি যে মেটা মনিটাইজেশনের ক্ষেত্রে এখন শর্ট ভিডিও অর্থাৎ 9:16 ফর্মাটের দিকে বেশী জোর দিয়েছে। লং ভিডিওর জন্য আলাদা ট্যাব এবং আলাদা মনিটাইজেশন পলিসি বন্ধ করে দিয়েছে। লং এবং শর্ট ভিডিও ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে একই শর্ত সাপেক্ষে মনিটাইজ হবে।


ইউটিউবের মনিটাইজেশন পলিসি আপডেট হওয়ার আগে দেখলাম “চ্যানেলের মনিটাইজেশন চলে যাবে, চ্যানেলে সহজে মনিটাইজেশন পাওয়া যাবে না, AI ভিডিও মনিটাইজ হবেনা…” এরকম নানা রকমের হাইপ তুলে নামী অনামী সুনামী বেশ কিছু কন্টেট ক্রিয়েটার নিজেদের চ্যানলে বেশ ভালোই ভিউস অর্জন করে নিলেন। নতুন ইউটিউব মনিটাইজেন পলিসি দেখে একটা প্রশ্ন উঠে তাহলে কি ইউটিউব ধীরে ধীরে নেটফ্লিক্স, অ্যামাজন প্রাইম হওয়ার সুপ্ত বাসনা নিয়ে এগোচ্ছে? এই আশংকা অমূলক নয় যখন জানা গেল যে আমেরিকাতে অধিকাংশ বাড়ির টিভিতে এখন ইউটিউব চলছে। ইউটিউবে তারা তাদের পছন্দের শো এবং সিনেমা দেখছেন। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশের DTH এবং কেবল লাইন ব্যাবহার করে টিভি দেখার দর্শক অনেক কমে যাবে। টিভি দর্শকরা আগামীদিনে স্ট্রিমিং এবং ওটিটি এর ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল হয়ে যাবে। এই বিশাল সম্ভাবনাময় বাজারের সুযোগ গুগোল নিশ্চয়ই হাতছাড়া করতে চাইবে না। তাই তারা ইউটিউব পলিসিতে উন্নতমানের কন্টেটের দিকে জোর দিতে চাইছে।

এবার মনিটাইজেশন নিয়ে একটু ভিন্ন প্রকারের আলোচনায় আসা যাক। কিছু বিষয় আছে যেগুলি সাধারণ ইউটিউব ক্রিয়েটারের ধারণার বাইরে থেকে যায়। বলা ভালো এগুলো নিয়ে গভীর আলোচনা করতে সাধারণত দেখা যায় না। প্রথমে যদি আপনাকে বলা হয় যে “আপনার চ্যানেলে মনিটাইজেশনের মাধ্যমে অর্জিত টাকা কে দেয়?” আপনি সরাসরি উত্তর দেবেন যে ইউটিউব দেয় অথবা গুগোল অ্যাডসেন্স দেয়। এখন প্রশ্ন হলো এই টাকা গুগোল কোথা থেকে অর্জন করে? সেক্ষত্রে উত্তর হবে যে “যারা বিজ্ঞাপন দেয় তাদের টাকা থেকে গুগোল ক্রিয়েটরদের কিছুটা দেয় বাকিটা তারা নিজেরা নিয়ে থাকে”। কিন্তু এখানে আরেকটি দিক আছে যে বিগত কয়েক বছরে থেকে বিজ্ঞাপনদাতাদের পাশাপাশি গুগোলে বিনিয়োগকারীদের টাকাও কিন্তু গুগোল অ্যাডসেন্সের খাতে প্রত্যেক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে ব্যয় করা হয়েছে। তখন মনিটাইজেশন পলিসি যথেষ্ট সহজ সরল ছিলো। মনিটাইজেশন প্রক্রিয়া না থাকলে কখনোই ইউটিউব ওয়েবসাইট বা অ্যাপ এত জনপ্রিয় হতো না। এর আরেকটি ভালো উদাহরণ হতে পারে ইনস্টাগ্রাম। কে বলতে পারে যে আগামীদিনে হোয়াটসঅ্যাপ -এও মনিটাইজেশন চালু হবেনা? মনিটাইজেশনের ফলস্বরূপ গুগোল বিপুল পরিমাণে ব্যাবহারকারীদের তথ্য বা ডেটা সংগ্রহ করতে পেরেছে। ইউটিউব ব্যাবহারকারীদের ডেটা ব্যাবহার করে গুগোল ডিজিটাল মার্কেটিং করে বিপুল পরিমাণে মুনফা অর্জন করছে এবং আগামীদিনে আরো করতে পারবে। শুধুমাত্র গুগোল নয় বিশ্বের নামীদামী সমস্ত ওয়েবসাইট এবং অ্যাপ এই একই পথে তথ্য সংগ্রহ করে উপার্জন করছে।

বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা এবং মন্দার আশংকার পর থেকে বিনিয়োগকারীরা কিন্তু এবার তাদের টাকা বাঁচাতে ব্যাস্ত। তাই তারা যে সব সংস্থায় ইতিমধ্যে বিনিয়োগ করেছেন, সেখান থেকে এবার নিজেদের প্রফিটের হিসাব বুঝে নিতে চাইছেন। অন্যদিকে আমজনতার ক্রয় ক্ষমতা কমে যাওয়াতে বিজ্ঞাপন দাতারা বড় সমস্যায় পড়ে যাচ্ছেন। ইউটিউবে দেওয়া বিজ্ঞাপনে ক্লিক কম হচ্ছে বা হলেও সেখান থেকে অধিকাংশ লিড সম্পূর্ণ সফল সেলসে পরিণত হচ্ছে না। প্রথম দিকে তারা ভেবেছিলেন যে হয়ত তাদের ডিজিটাল মার্কেটিং -এর পরিকল্পনাতে কোনো সমস্যা আছে। কিন্তু ক্রমশই তারা বুঝতে পারেন যে আসল সমস্যা কেন্দ্র অন্য জায়গায়। অধিকাংশ ভাইরাল ভিডিও অথবা জনপ্রিয় ইউটিউব চানেলে বিপুল পরিমাণে ভিউস এবং বিজ্ঞাপনে ইম্প্রেশন তো আসছে কিন্তু সেই বিজ্ঞাপনে ক্লিক করে পণ্য অথবে পরিষেবা ক্রয় করার ক্ষমতা খুব কম সংখ্যক দর্শকদের মধ্যে সীমিত আছে।

এরপরেই বিজ্ঞাপনদাতা সংস্থাগুলি একত্রে গুগোলের কাছে জবাবদিহি চাইলেন। ততদিনে গুগোল বুঝতে পেরেছে যে ইউটিউবে Low Quality Content দেখতে যত দর্শকদের ভিড় হয় সেই অনুপাতে দর্শকদের মধ্যে বিজ্ঞাপন থেকে কেনার লোক কম, বরং কমেন্ট লাইক শেয়ার সাবক্রাইব করার লোক অনেক বেশী। এবার তারা AI ব্যাবহার করে একটি সুন্দর জিনিস আবিস্কার করলেন। ইউটিউবে যে চ্যানেলগুলো High Quality এবং যুক্তিসম্মত কন্টেট বানায়, সেখানকার দর্শকদের বিজ্ঞাপন থেকে ক্রয় করার পরিমাণ এবং ক্রয় ক্ষমতা বেশী। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে চ্যানেলগুলোতে শিক্ষামূলক কন্টেট বেশী দেখানো হয় এবং অনলাইনে বিভিন্ন কোর্স করানো হয়। দেখা যায় যে শিক্ষামূলক চ্যানেলের সঙ্গে আরো কিছু চ্যানেল আছে যারা উচ্চমানের কন্টেট আপলোড করে এবং সেখানে যে অ্যাফিলিয়েট বিজ্ঞাপন দেখানো হয় সেগুলো থেকেও ভালো সেলস সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এখন যেমন কিছু জনপ্রিয় ইউটিউব চ্যানেল আছে যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং সামাজিক সমস্যাগুলো নিয়ে উচ্চমানের আলোচনা করা হয় তাদের কন্টেট দেখলে বোঝা যায় যে তারা কোনো কোর্স অথবা সার্ভিসকে প্রোমোট করছেন।

এখন ইউটিউব High Quality কন্টেটযুক্ত চ্যানেলগুলোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে এদের ভিডিও ইউটিউবে বেশী দেখা যাচ্ছে। এবং ঐ চ্যানেলগুলিতে উন্নতমানের বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয়েছে। ফলে চ্যানেলেগুলো অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর পাশাপাশি ইউটিউবের বিজ্ঞাপনের ইমপ্রেশন এবং ক্লিক থেকে এখন বিপুল পরিমাণে মনিটাইজেশনের লাভ পাচ্ছে। ভবিষ্যতে গুগোল এবং বিজ্ঞাপনদাতারা আপনার ইউটিউব চ্যানেলের দর্শকদের ক্রয় ক্ষমতা দেখে আপনার চ্যানেলের ভিডিওতে মনিটাইজেশনের সুবিধা দেওয়ার জন্য বিবেচনা করবে। নতুন ক্রিয়েটরদের তাদের কন্টেটের কোয়ালিটির দিকে শুরু থেকেই নজর দিতে হবে। কারণ মনিটাইজেশন চালু হওয়ার অনেক আগে থেকেই কিন্তু ভিডিওতে পরীক্ষামূলকভাবে বিজ্ঞাপন দেখানো শুরু হয়ে থাকে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন